বালির ঢিবি

Updated: Apr 16, 2025

নদী তার উৎসস্থান থেকে অবিরাম প্রবাহিত হয়ে পাহাড়, জঙ্গল ও মরুভূমি অতিক্রম করে সাগরে পৌঁছায়। সে কোথাও থামে না, বিশ্রাম নেয় না, যতক্ষণ না সে তার "পূর্ণ" অর্থাৎ সাগরের সঙ্গে মিলিত হয়। নদী তার পূর্ণের একটি "অংশ"। প্রকৃতির এই নিয়ম – "অংশ" সর্বদা তার "পূর্ণ" এর সঙ্গে মিলনের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।
কিন্তু এই যাত্রাপথে নদী সঙ্গে করে বয়ে আনে মাটি, বালি, পাথরের টুকরো এবং নানা রকমের ময়লা ও অপদ্রব্য। যখন সে সাগরে পৌঁছায়, তখন সামনে আসে একটি বাধা। সাগর বলে – "আমি তোমাকে তোমার শুদ্ধতম রূপেই গ্রহণ করতে চাই, আর তুমি তো নানান রকমের মিশ্রণ নিয়ে এসেছ! যা কিছু তুমি পথিমধ্যে সংগ্রহ করেছো, তা ছেড়ে দাও, তারপর আমার কাছে এসো।"
সাগর বালিকে প্রত্যাখ্যান করে, কিন্তু শুদ্ধ জলে সে আপন করে নেয়। এখান থেকেই তৈরি হয় বালির ঢিবি। ঠিক এই ভাবেই, যখন থেকে আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি, আমরা শুধুই তথ্য সংগ্রহ করে চলেছি। প্রতিটি পরিস্থিতি, প্রতিটি মানুষের থেকে আমাদের মন – সচেতন বা অবচেতনভাবে – কিছু না কিছু সংগ্রহ করেই চলেছে।
যদি আমাদের ভক্তি না হয় স্থির, না হয় একনিষ্ঠ, তাহলে আমাদের বাধ্য হয়েই ৮৪ লক্ষ যোনিতে ঘুরে বেড়াতে হয়। সুতরাং, কেবল সেই জীবই ভগবানকে লাভ করতে পারে, যার ভক্তি হয় শুদ্ধ, একনিষ্ঠ, অটল ও নিঃস্বার্থ।
রাধে রাধে